মনোনয়ন বাণিজ্য : ক্ষোভ বিক্ষোভ অব্যাহত জাপার বনানী কার্যালয় ব্যাপক ভাংচুর, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন, তালা দিয়ে পার্টি অফিস বন্ধ * মহাসচিবকে অবাঞ্ছিত ঘোষণা ও অপসারণের দাবি * প্রতিবাদে দল ছাড়ছেন অনেকেই

রাজনীতি
0
0

জাতীয় পার্টির মহাসচিব এবিএম রুহুল আমিন হাওলাদারের লাগামহীন মনোনয়ন বাণিজ্যের প্রতিবাদে বিক্ষুব্ধ নেতাকর্মীরা দলের চেয়ারম্যান হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের বনানী কার্যালয় ভাংচুর করেছে। পার্টির প্রেসিডিয়াম সদস্য ও মহানগর উত্তরের সাধারণ সম্পাদক শফিকুল ইসলাম সেন্টুর নেতৃত্বে দলটির বিক্ষুব্ধ নেতাকর্মীরা বৃহস্পতিবার বিকালে এ হামলা চালায়। ব্যাপক ভাংচুর ছাড়াও তারা মহাসচিব রুহুল আমিন হাওলাদারের অপসারণ দাবিসহ তাকে অবাঞ্ছিত ঘোষণা করে। এছাড়া বিভিন্ন স্লোগান দিয়ে তাকে খুঁজতে থাকেন। তবে আসার কথা থাকলেও তিনি অফিসে আসেননি। এদিকে খবর পেয়ে পুলিশ এসে পার্টির বিক্ষুব্ধ নেতাকর্মীদের সরিয়ে দেয় এবং পরিস্থিতি সামাল দিতে পুলিশের পক্ষ থেকে দলীয় কার্যালয়টিতে তালা দেয়া হয়। এরপর সেখানে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়। সূত্র জানায়, দলের মহাসচিবের অনুরোধে পুলিশ অফিসের প্রধান ফটকে তালা ঝুলিয়ে দেয়। জাতীয় পার্টির ভাইস চেয়ারম্যান অধ্যাপক ইকবাল হোসেন রাজু যুগান্তরকে বলেন, ‘জাতীয় পার্টির মহাসচিব এবিএম রুহুল আমিন হাওলাদারের মনোনয়ন বাণিজ্যের প্রতিবাদে বিক্ষুব্ধ নেতাকর্মীরা এ হামলা চালায়।’ তিনি বলেন, ‘শফিকুল ইসলাম সেন্টু ঢাকার জনপ্রিয় নেতা। তিনি একাধিকবার মোহাম্মদপুর থেকে কমিশনার নির্বাচিত হয়েছেন। তাকে মনোনয়ন দেয়ার কথা বলে টাকা নেন মহাসচিব। কিন্তু শেষ পর্যন্ত তাকে মনোনয়ন দেয়া হয়নি। তিনি এতে ক্ষুব্ধ হন। বনানী কার্যালয়ে গিয়ে প্রতিবাদ করেন। এরপর সেখানে ভাংচুরের ঘটনা ঘটে। জানা গেছে, একই অবস্থা জাতীয় পার্টির কাকরাইলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়েও। দলটির বিক্ষুব্ধ নেতাকর্মীরা বৃহস্পতিবার এই অফিসেও অবস্থান নিয়ে মহাসচিবকে অবাঞ্ছিত ঘোষণা করেন। ত্যাগী ও জনপ্রিয় নেতাদের মনোনয়ন নিশ্চিত করতে তারা জোর দাবি জানান। পাশাপাশি এবিএম রুহুল আমিন হাওলাদারকে দল থেকে বহিষ্কারেরও দাবি জানিয়েছেন দলটির নেতাকর্মীরা। এদিকে নির্বাচনকে ঘিরে জাতীয় পার্টির মহাসচিব এবিএম রুহুল আমিন হাওলাদারের লাগামহীন মনোনয়ন বাণিজ্যে ক্ষুব্ধ নেতারা একে একে দল ছাড়তে শুরু করেছেন। জাতীয় পার্টির মনোনয়নের চিঠি না পাওয়ায় বুধবার পদত্যাগ করেন দলটির প্রেসিডিয়াম সদস্য ও গাইবান্ধা জেলার সভাপতি আবদুর রশীদ সরকার। দল ছেড়ে বিএনপিতে যোগ দিয়ে তিনি ধানের শীষের চিঠি পাওয়ার পর মনোনয়নপত্রও জমা দিয়েছেন। আবদুর রশীদ সরকার ১৯৯১ ও ১৯৯৬ সালে গাইবান্ধা-২ আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছিলেন। যুগান্তরকে তিনি বলেন, গাইবান্ধা-২ আসনে মনোনয়ন না পেয়ে তিনি পদত্যাগ করেছেন। আবদুর রশীদ সরকারের অভিযোগ, কেবল ‘টাকার অঙ্ক কমে যাওয়ায়’ জাপা তাকে ২০০১ সালে মনোনয়ন দেয়নি। তিনি আরও বলেন, ‘আমাকে ২০০৮-এ মনোনয়ন দেয়া হয়নি। পরে আমার হাত ধরে পার্টিতে যারা এসেছেন, তাদেরও মনোনয়ন দেয়া হয়েছে। কিন্তু আমাকে অবজ্ঞা করা হয়েছে। আমি পার্টির জন্য অনেক করেছি, টাকা খরচ করেছি। আর কত? আমি আর পারছিলাম না।’ জাতীয় পার্টির নেতাদের অভিযোগ, এবারের নির্বাচনকে ঘিরে দলটির মহামচিব এবিএম রুহুল আমিন হাওলাদার প্রার্থী মনোনয়নে বিপুল অঙ্কের টাকার লেনদেন করেছেন। খোদ দলটির একাধিক মনোনয়নপ্রত্যাশী এ অভিযোগ তুলেছেন। এদিকে জাতীয় পার্টির আরেক প্রেসিডিয়াম সদস্য ও ঢাকা মহানগর উত্তরের সাধারণ সম্পাদক শফিকুল ইসলাম সেন্টুও পদত্যাগ করবেন বলে জানিয়েছেন। তিনি ঢাকা-১৩ আসনে জাতীয় পার্টির মনোনয়নপ্রত্যাশী ছিলেন। গত বুধবার জাতীয় পার্টির যে প্রার্থীর তালিকা প্রকাশ করা হয় সেখানে তার নাম রয়েছে। তবে এদিন সন্ধ্যায় যখন সেন্টুর কাছে মনোনয়নের চিঠি পৌঁছানো হয়, ততক্ষণে মনোনয়নপত্র জমার সময় শেষ হয়ে যায়। অভিযোগ উঠেছে, যাতে সেন্টু মনোনয়নপত্র জমা দিতে না পারেন সেজন্য পরিকল্পিতভাবে এটি করা হয়। এতে ক্ষুব্ধ হয়ে শফিকুল ইসলাম সেন্টু বৃহস্পতিবার সকালে বনানীতে দলের রাজনৈতিক কার্যালয়ে সমর্থকদের নিয়ে মহড়া দেন। তার সমর্থকরা কার্যালয়ের সামনে মহাসচিব হাওলাদারের বিরুদ্ধে বিভিন্ন স্লোগানও দেন। এ সময় সেন্টু সাংবাদিকদের বলেন, মনোনয়নের চিঠি না পেয়ে তিনি দল ছাড়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। দু-একদিনের মধ্যেই পদত্যাগের চিঠি দেবেন। এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত রাত সাড়ে ৯টায় জাতীয় পার্টির বনানী অফিসে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন ছিল। দলীয় সূত্র জানায়, নেতাকর্মীদের বিক্ষোভ ভাংচুরের খবর পেয়ে জাতীয় পার্টির সিনিয়র কোনো নেতা বিকালের পর থেকে বনানী অফিসে আসেননি।

Please follow and like us:
0
0

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *