মিরপুরে ফার্মেসী গুলোতে চলছে প্রেসক্রিপশন ছাড়া ঔষধ বিক্রির রমরমা ব্যবসা। 

0
0

মিরপুরে ফার্মেসী গুলোতে চলছে প্রেসক্রিপশন ছাড়া ঔষধ বিক্রির রমরমা ব্যবসা। 

শেখ রাজুউজ্জামানঃ কিছু অসাধু ঔষধ ব্যবসায়ী ঔষধ বিক্রির অন্তরালে নেশাজাতীয় ইনজেকশন ট্যাবলেট বিক্রি করার অভিযোগ রয়েছেইয়াবা, হেরোইন, ফেনসিডিল, গাঁজা, মদের পাশাপাশি এবার নেশার রাজ্যে যুক্ত হয়েছে ঘুমের ট্যাবলেট। বিভিন্ন ধরণের ঘুমের ট্যাবলেট মাদক সেবীদের কাছে দিন দিন প্রিয় হয়ে উঠছে। বলা চলে মাদকদ্রব্যের অতিরিক্ত মূল্যের কারনে ও আইন শৃঙ্খলাবাহিনীর তৎপরতার ফলে মাদক সেবীরা ঝুঁকে পড়েছে বিভিন্ন ঔষধ কোম্পানীর ঘুমের ট্যাবলেটের দিকে।সেই সুযোগে  ফার্মেসীর মালিকরা ক্রেতাদের কাছ থেকে হাতিয়ে নিচ্ছে মুল্যের চেয়ে ১০ গুন বেশি টাকা হাত বাড়ালেই যে কোন  ফার্মেসী থেকে অনায়াসে মিলছে এসব  ঘুমের ট্যাবলেট। এলাকায় বেশির ভাগ লাইসেন্সবিহীন এবং লাইসেন্সধারী ফার্মেসীতে বিক্রি হচ্ছে ঘুমের ট্যাবলেট।

শুক্রবার রাত ১০টায় তোলা ছবিটি

জানা যায় রাজধানীর রুপনগর থানাধীন আ/এ, রোড-২০, বাড়ী-২১ এর নীচ তলায় অবস্থিত ওয়ারদা ফার্মেসী বুক ভিষন। সরেজমিনে দেখা যায় যে (শুক্রবার) রাত ১০টার দিকে ওয়ারদা ফার্মেসীতে সরকারী নিয়মনীতির তোয়াক্কা না করে বিভিন্ন নামী দামী ঔষধ কোম্পানীর ঘুমের ট্যাবলেট প্রেসক্রিপশন ছাড়া  অপ্রাপ্ত বয়সের কিশোরদের  নিকট (ইনসেপ্টা কোম্পানীর ডিসোপ্যানক্লোনাজেপাম, ২মি.গ্রা.) ঔষধ বিক্রয় করে। জানতে চাইলে ঔষধ ক্রয় করে যাওয়ার পথে স্থানীয়রা রাজন (১১) কে ডাকিয়া তাহার হাতে থাকা ঘুমের ঔষধের বিষয়ে জানতে চাহিলে সে বলে, ঔষধ খেলে মাথা ঝিমঝিম করে এবং প্রচুর ঘুম আসে, মনে হয় আকাশে উড়ছি

এবিষয়ে ফার্মেসীর মালিক শহিদুল বলেন, আমি তো দোকানেই ছিলাম, কিন্ত আমি তো এই ঔষধ বিক্রি করিনি। আমার কর্মচারী ছেলেটি বিক্রি করতে পারে। তিনি আরও বলেন, প্রেসক্রিপশন ছাড়া ওষুধ বিক্রির কোন নিয়ম নেই ভুল করে হয় তো বিক্রি করছে। ঔষধের দাম বেশি নেওয়ার কারন জানতে চাইলে শহিদুল বলেন, ছেলেটা দাম জানেনা তাই হয় তো বেশি নিতে পারে।

স্থানীয়রা বলেন, এলাকার ছোট ছোট নাবালক শিশু কিশোর ওই ফার্মেসী থেকে নেশার ট্যাবলেট ক্রয করে খেয়ে অসুস্থ হয়ে পড়েছে। আমরা ভয়ে প্রতিবাদ করতে পারিনা, তারা থানাপুলিশ এলাকার প্রভাবশালীদের ম্যানেজ করে চলে কিন্ত এলাকাটি আবাসিক এলাকা হলেও বানিজ্যক স্থাপনায় ভরা।  অবাক লাগে  বাসার নীচতলায় একই ফ্লোরে  ওয়ারদা ফার্মেসী ঔষধ রাখা এবং অন্য পাশে স্টেশনারী, বই খাতা বাচ্চাদের নানা ধরনের খেলনা সাজানো। তদন্তছাড়া সরকার ড্রাগ লাইসেন্স দেয় কিভাবে। ঔষধের দোকানে বাচ্চাদের খেলনাও বিক্রি করে দেখে হতবাক সুশীল সমাজ। 

এছাড়াও রাজধানীর মিরপুর, পল্লবী বাউনিয়াবাধ এলাকাসহ বিভিন্ন অলিগলিতে গড়ে ওঠা  ঔষধের দোকান গুলোতেও প্রায় একই চিত্র। আরও খোজ খবর নিয়ে জানা যায় প্রায় প্রতিদিনই অন্যান্য ঔষধের চেয়ে ঘুমের ট্যাবলেট বিক্রি হচ্ছে বেশি।  এমন অনেক ফার্মেসী আছে যেখানে প্রতিদিন প্রায় ১০ থেকে ১৫ প্যাকেট ঘুমের ট্যাবলেট বিক্রি  করছে।

সরকারি নিয়মনীতিমালায় যে কোন ঔষধ, ডাক্তারের ব্যবস্থাপত্র ছাড়া বিক্রি করা নিষেধ থাকলেও মিরপুর  এলাকার  চিকিৎসক নামে ড্রাগ লাইসেন্স বিহীন শত শত ঔষধের দোকান গুলো তা মানছে না। এসব ফার্মেসী সরকারের নিয়মনীতির তোয়াক্কা না করে  শুধু টাকার বিনিময়েই বিক্রি করছে ঘুমের ঔষধ।

ঔষধ সেবনের বিষয়ে জানতে চাইলে অধ্যাপক বিভাগীয় প্রধান, বারডেম জেনারেল হাসপাতালের প্রফেসর (ডাঃ) .কে.এম.মূসা বলেন, ডিসোপ্যানক্লোনাজেপাম,২মি.গ্রা. অপারেশন  করা বেশির ভাগ রোগীর জন্য প্রযোজ্য অধিক ঘুমের জন্য তা শুধু ডাক্তারি পরামর্শে ব্যবহার যোগ্য। তিনি আরও বলেন, ডাক্তারি পরামর্শ ছাড়া কোন সুস্থ মানুষ  প্রতিনিয়ত এই ঔষধ সেবন করে তাহলে মানব দেহের বড় ধরনের  ক্ষতি হতে পারে। এমনকি ক্যানসার সহ ব্রেন ব্লক হয়ে সেন্স লেস হওয়ার আশংকা দেখা দিতে পারে।

খবর এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয়রা ভিড় করে ওয়ারদা ফার্মেসীর সামনে পরে সাংবাদিকদের পেয়ে একাধিক অভিযোগ করেন তারা। স্থানীয়রা আরও বলেন, রূপনগর মডেল স্কুলের বেশির ভাগ ফাইভ, সিক্স সেভেন পড়ুয়া ছাত্রদের হাতে মুল্যের চেয়ে বেশি দামে ঘুমের ঔষধ বিক্রয় করা হচ্ছে। আর ঔষধ সেবন করে তারা পড়ালেখা না করে রাস্তা ঘাটে যেখানে সেখানে ঘুমিয়ে পড়ে দল বেধে মাতলামি করে। পরিবারেও নেমে আসে অশান্তি। তারা আরও বলেন, কিছু দিন আগেও স্কুলের ছাত্র সাজ্জাদ সহ তার বন্ধুরা এই দোকানের ঘুমের ঔষধ সেবন করে অসুস্থ হয়ে জীবন নাশের সন্দিখনে পাগল প্রায়

বিভিন্ন জায়গায় শুনা যায় ঘুমের ট্যাবলেট শুধু  খাদ্য সামগ্রীর সঙ্গে মিশিয়ে সেবন করে ক্ষান্ত নয়, বিভিন্ন কায়দায় সাধারণ মানুষকে সেবন করিয়ে লুটে নিচ্ছে সর্বস্ব। নিভিয়ে দিচ্ছে জীবন প্রদীপ।

ঘুমের ট্যাবলেটের মধ্যে রয়েছে সিরামিন সিরাপ ইবনেসিনা কোম্পানী, স্কয়ার  লাইজন এএমজি, সেডিল ২০ পিস ৫এমজি, ট্রাইপট্রিন ১০/২৫এমপি, ডরমিটল ./১৫ এমজি, রেডিএন্ট কোম্পানীর এবং ল্যাগজুটেনিল ৩এমজি, অরিউন কোম্পানীর গোফাম এমজি, সেনডোজ কোম্পানীর এক্সিউনিল ৩এমজি, অপসোনিন কোম্পানীর ইজিয়াম ৫এমজিপেইস এমজি, ইনসেপটা কোম্পানীর হাইফনোফাস্ট ১৫ এমজি, ডিসোপান এমজি, ক্লোসান ২এমজি, এসকেএফ কোম্পানীর মিলাম ১৫এমজি পাতা থেকে ছাড়ানো হয়। পরে সেগুলোকে একত্রিত করে বাটা হয় কাগজ ওপর বাটা শেষে সিরামিন সিরাপের বোতলে  সাথে মেশানো হয়। ৫/৭ মিনিট পরে সেবন করা হয় জাক্কি নামক মরণ নেশা

অথচ এসব ঔষধ গুরুতর অসুস্থ্য, দুর্ঘটনার আহত দুশ্চিন্তাগ্রস্থ লোকজনের ঘুমের ব্যাঘাত ঠেকাতে উৎপাদন বাজার জাত করছে। ঔষধ কোম্পানীর বিক্রয় প্রতিনিধিরা এসব ঔষধ ডাক্তারের ব্যবস্থাপত্র ছাড়া বিক্রি নিষিদ্ধ হলেও অতি মুনাফার আশায় বিক্রি করছেনেশার উদ্দেশ্যে সেবনে আসক্ত ব্যক্তিরা তা ক্রয় করে সেবন করছে।

এসব ঔষুধ সেবনে প্রতিদিন শত শত তরুণতরুণী ও কিশোরকিশোরীর জীবন ধ্বংস হচ্ছে। নেশায় আসক্ত হয়ে পরছে তরুণতরুণী ও কিশোরকিশোরীরা।নেশায় ক্রয়ের টাকার জন্য করছে বিভিন্ন অপরাধ মূলক কাজ, চুরি,ছিনতাই সহ বড় ধরনের অপরাধ। এমনকি মানুষকে হত্যা করতেও পিছু পা হচ্ছেনা। নেশার টাকা জোগাতে মাবাবা কে মারধরের ঘটনা আমাদের দেশে অহরহ ঘটছে।

এসব ঔষধ রাজধানীর  বিভিন্ন ফার্মেসীতে প্রেসক্রিপশান ছাড়াই  বিক্রি হচ্ছে প্রতিনিয়ত। অধিক লাভের আশায় ফার্মেসীর মালিকরা সরকারের কোন নিয়ম নীতির তোয়াক্কা না করে যে কোন ব্যক্তির হাতে ডাক্তারদের ব্যবস্থাপত্র ছাড়া এসব ট্যাবলেট তুলে দিচ্ছে। আর এসব ঘুমের ট্যাবলেট মাদকাসক্তদের হাতে চলে যাচ্ছে অনায়াসে

Please follow and like us:
0
0

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

call now
Poor News
Social media & sharing icons powered by UltimatelySocial