সন্তানের গলা কেটে দিলেন সৎমা, রক্ত দিয়ে বাঁচাল পুলিশ  : রাঙ্গামাটি

আশেপাশে
0
0

সন্তানের গলা কেটে দিলেন সৎমা, রক্ত দিয়ে বাঁচাল পুলিশ  :রাঙ্গামাটি

রাঙ্গামাটিতে সাড়ে ৪ বছর বয়সী সন্তানকে গলায় ছুরি দিয়ে আঘাত করে হত্যা চেষ্টার অভিযোগ পাওয়া গেছে সৎ মা কাওসার ফেরদৌস (৩০) এর বিরুদ্ধে। রোববার ১২ই জানুয়ারী দুপুরে শহরের জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের পাশে সোনালী ব্যাংক সংলগ্ন একটি ভাড়া বাসায় এ ঘটনা ঘটে। ছুরি দিয়ে গলায় আঘাতের পর শিশুটির চিৎকার শুনে সৎ মা পালাতে গিয়ে এলাকাবাসী তাকে ধরে পুলিশে সোপর্দ করে। পরে পুলিশ সৎ মাকে আটক করে কোতোয়ালি থানায় নিয়ে যায়। অন্যদিকে আহত শিশু ফারজান আহম্মেদ (৪) কে এলাকাবাসী তাৎক্ষনিক রাঙ্গামাটি হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার পর কর্তব্যরত চিকিৎসক তার গলায় সার্জারী করিয়ে শিশু ওয়ার্ডে পাঠান। শিশুটির গলায় প্রায় ৬ ইঞ্চি কেটে গেছে বলে জানান হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসক শওকত আকবর। প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা গেছে, একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক ফারুক আহম্মেদ তালুকদার তার দ্বিতীয় স্ত্রী নিয়ে শহরের জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের পাশে সোনালী ব্যাংক সংলগ্ন একটি ভাড়া বাসায় বসবাস করতেন এবং প্রথম স্ত্রীকে তবলছড়ি এলাকায় ভাড়া বাড়ায় রাখতেন। শিশুটির মা ফারজানা আক্তার বলেন, ‘আমি কাপড় শুকাতে ছাদে যাওয়ার পর হঠাৎ শিশুর ডাক চিৎকার শুনে বাসার বাথরুমে গিয়ে দেখি আমার স্বামীর প্রথম স্ত্রী কাউছার ফেরদৌস ছুরি দিয়ে আমার ছেলে ফারজান আহম্মেদের গলা কেটে দিয়েছে। এসময় শিশু ডাক চিৎকার দিলে সে কাউছার ফেরদৌস আমাকেও ছুরি দিয়ে হত্যা করার উদ্দেশ্যে তেরে আসে। আমার চিৎকার শুনে এলাকাবাসী ছুটে এসে কাউছার ফেরদৌসকে ধরে ফেলে।’ শিশুটিকে কেন হত্যা করতে এলো এমন প্রশ্নের জবাবে ফারজানা আক্তার বলেন, আমার স্বামী নাকি তাকে দেখে না, হয়তো এ কারণে সে আমার ছেলেকে হত্যা করতে এসেছিল। রাঙ্গামাটি সদর হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসক শওকত আকবর বলেন, আহত শিশুটির গলায় লম্বা কাটার দাগ রয়েছে। প্রায় ৬ ইঞ্চির মতো কেটে গেছে। প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য চট্টগ্রামে রেফার্ড করা হয়েছে। এখন গভীর পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে। তবে শিশুটি এখনো আশঙ্কামুক্ত নয় বলে ডাক্তার জানান।প্রচুর রক্তক্ষরণ হওয়ায় কর্তব্যরত ২জন পুলিশ সদস্য ২ ব্যাগ রক্ত দিয়েছেন শিশুটিকে। রাঙ্গামাটির অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মোঃ ছুফিউল্লাহ ও কোতয়ালী থানার ওসি মীর জাহিদুল হক রণি ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন,ফারজান আহম্মেদ এর সৎ মা দুপুরে বাসায় গিয়ে শিশু ফারজানকে ডেকে নিয়ে ছুরি দিয়ে আঘাত করে। এতে শিশুটি ডাক চিৎকার করলে শিশুটির মা ফারজানা আক্তারসহ সবাই দৌড়ে এসে শিশুটিকে উদ্ধার করে। এসময় এলাকাবাসী সৎ মা কাউসার ফেরদৌসকে ধরে পুলিশের নিকট সোপর্দ করে। সৎ মায়ের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে।

Please follow and like us:
0
0

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *