জেলেদের অস্ত্র দিয়ে জলদস্যু বলে আটকের অভিযোগ : ভোলা 

0
0

জেলেদের অস্ত্র দিয়ে জলদস্যু বলে আটকের অভিযোগ : ভোলা 

ভোলায় সাধারণ জেলেদের দেশীয় অস্ত্র দিয়ে জলদস্যু হিসেবে আটকের অভিযোগ উঠেছে কোস্টগার্ডের বিরুদ্ধে। নদীতে টহলরত কোস্টেগার্ডের সদস্যরা সদর উপজেলার রাজাপুর ইউনিয়নের রামদাশপুর গ্রামের আব্দুল গফুর ও কামাল হোসেন নামে ২ জেলে এবং বাহাদুর বেপারী নামে ১ মৎস্য ব্যবসায়ীকে রামদা দিয়ে জলদস্যু হিসেবে মামলা করে থানায় চালান দিয়েছেন। রোববার ১২ই জানুয়ারি দুপুরে ভোলা শহরের একটি পত্রিকা অফিসে রাজাপুর ইউনিয়নের প্রায় ১০/১৫ জন জেলে সংবাদ সম্মেলন করে এ অভিযোগ করেন। সংবাদ সম্মেলনে রাজাপুরের মাইদুল ও রুবেল নামে ২ জেলে বলেন, প্রতিদিনের ন্যায় গত শনিবার ১১ই জানুয়ারি সারাদিন তারা সদর উপজেলার রাজাপুর ইউনিয়নের বঙ্গেরচর এলাকার মেঘনা নদীতে মাছ শিকার করে রাতে বঙ্গেরচর মাছ ঘাটের কাছে একটি খালে মাছ, জাল ও নৌকা নিয়ে রাত্রিযাপন করেন। এ সময় তাদের নৌকার কাঁথা-কাপড় ভেজা থাকায় নৌকার জেলে আব্দুল গফুর ও কামাল রাঢ়ী ঐ ঘাটের মিজান খানের আড়তে গিয়ে ঘুমান। পরবর্তীতে রাত দেড়টার দিকে কোস্টগার্ডের একটি ট্রলার মাহিদুল মাঝির নৌকার কাছে গিয়ে তাকে ঘুম থেকে ডেকে তোলে তাদের ট্রলার নিয়ে যায়। এ সময় কোস্টগার্ড তাকে রাত ৯টার দিকে ১০০ রাউন্ড গুলি বর্ষণের কথা জিজ্ঞেস করলে তিনি শুনেননি বলে জানান। পরে কোস্টগার্ড তাকে ট্রলারে রেখে মাছ ঘাটের দিকে যায় এবং সেখান থেকে জেলে আব্দুল গফুর ও কামাল রাঢ়ী এবং ঘাটে থাকা মাছ ব্যবসায়ী বাহাদুর বেপারীকে ধরে নিয়ে আসে। তারা মাহিদুল মাঝিকে ছেড়ে দিয়ে ঐ ৩ জনকে নিয়ে চলে আসে এবং তাদেরকে সকালে ৯টি রামদাসহ জলদস্যূ হিসেবে ভোলা থানায় সোপর্দ করে। সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে জেলেরা এ ঘটনার তদন্তপূর্বক আটককৃতদের নিঃশর্ত মুক্তির দাবি করেন। অপরদিকে রোববার সকালে ভোলার খেয়াঘাট রোডে অবস্থিত কোস্টগার্ড দক্ষিণ জোন কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলন করে অপারেশন অফিসার লে. ওয়াসিম আকিল জাকির জানান, শনিবার দিবাগত রাতে রাজাপুরের বঙ্গের চর এলাকায় একটি মাছের আড়তে দেশি বন্দুক ও অস্ত্রসহ ২ দল ডাকাত ডাকাতি করতে আসে। এ সময় ডাকাতদের ২ গ্রুপের মধ্যে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্রে করে গোলাগুলি ও সংর্ঘষ হয়। ঐ সময় স্থানীয়রা কোস্টগার্ডকে খবর দিলে তারা ঘটনাস্থলে গিয়ে ৯টি বড় রামদাসহ ২ জনকে আটক করে। এছাড়াও বাকি ডাকাতরা পালিয়ে যাওয়ায় তাদেরকে আটক করতে পারেনি কোস্টগার্ড। এ ঘটনায় রাজাপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মোঃ মিজানুর রহমান খান জানান, তার বঙ্গের চরের ঘাটটি গত অক্টোবর মাস থেকে বন্ধ রয়েছে। ঐ ঘাটে কোনো মাছ বেচা-বিক্রি হয় না। আর সেখানে রাতে কোনো ডাকাতির ঘটনা ঘটেনি। এছাড়াও কোস্টগার্ড কর্তৃক আটককৃতরা সাধারণ জেলে বলে তিনি দাবি করেন।

সূত্রঃ জাগোনিউজ২৪.কম

 

Please follow and like us:
0
0

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

call now
Poor News
Social media & sharing icons powered by UltimatelySocial