২ শিশুর দৃষ্টিশক্তি কেড়ে নিলেন শিক্ষকরা : বগুড়া

0
0

২ শিশুর দৃষ্টিশক্তি কেড়ে নিলেন শিক্ষকরা : বগুড়া

বগুড়ার শাজাহানপুরের মালীপাড়ায় শিক্ষকের ছোড়া কলমের আঘাতে শিক্ষার্থী দৃষ্টিশক্তি হারিয়েছে। ঘটনাটি ঘটেছে গ্রামীণ একাডেমি স্কুল অ্যান্ড কলেজ নামে একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে। শিক্ষার্থী হলোউপজেলার মালীপাড়া গ্রামের সাইদুল ইসলামের পুত্র শাহ আলম () রামচন্দ্রপুর গ্রামের রবিউল ইসলামের পুত্র সোহান (১৩)এক প্রতিবেদনে এসব তথ্য উল্লেখ করে বার্তা সংস্থা ইউএনবি জানিয়েছে, ঘটনায় এলাকায় সমালোচনার ঝড় উঠলেও স্কুল কর্তৃপক্ষের চাপে বিচার চাওয়ার সাহস পাচ্ছে না ভুক্তভোগী শিশু দুটির পরিবার। ঘটনার বিবরণে জানা যায়, শাহ আলম বিদ্যালয়ের ২য় শ্রেণির ছাত্র এবং সোহান সপ্তম শ্রেণির। এছাড়া দুজনই বিদ্যালয়ে প্রতিদিন কোচিং করতো। শাহ আলমের মাবাবা জানান, গত ১৪ই জানুয়ারি শাহ আলম কোচিং করার সময় লিখতে ভুল করায় দুষ্টুমি করারঅপরাধেশিক্ষিকা রীমা খাতুন হাতে থাকা কলমটি ছুড়ে মারলে সেটি শাহ আলমের চোখে লাগে। ব্যথায় কাঁদতে শুরু করলে বিদ্যালয়ের শিক্ষকরা তাকে ছুটি দিয়ে বাড়ি পাঠিয়ে দেন এবং বিষয়টি মাবাবাকে জানাতে নিষেধ করেন। কিন্তু চোখের ব্যথা বেশি হওয়ায় শাহ আলম আবারও কান্নাকাটি শুরু করলে বাড়ির আশপাশের সহ-পাঠীরা তার মাবাবাকে বিষয়টি জানায়। পরদিন বিদ্যালয়ে গিয়ে জানতে চাইলে প্রধান শিক্ষিকা লুৎফা জাহান পরিচালক আবু সাঈদ বাদশা বিদ্যালয়েরসুনাম রক্ষার্থেশাহ আলমের মাবাবাকে চুপ থাকতে বলেন এবং চিকিৎসার যাবতীয় ব্যয় বহন করার প্রতিশ্রুতি দিয়ে তাকে বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করান। কিন্তু চোখের চিকিৎসায় খরচ বেশি হবে জানার পর পরদিনই চিকিৎসককে বলে ছাড়পত্র নেওয়া হয়। এভাবে মাস পেরিয়ে যাওয়ার পর শাহ আলমের মাবাবা বিষয়টি নিয়ে সোচ্চার হলে চিকিৎসা ব্যয় বহন করতে অস্বীকার করেন বিদ্যালয়ের পরিচালক আবু সাঈদ বাদশা প্রধান শিক্ষিকা লুৎফা জাহান। পরে বাধ্য হয়ে বগুড়ায় চক্ষু ডাক্তারের কাছে গেলে শাহ আলমের চোখ আর ঠিক হবে না বলে পরিবারকে জানিয়ে দেন চিকিৎসক। শিশু শাহ আলম বলে, ‘‘আমি লিখতে ভুল করায় ম্যাডাম আমার দিকে কলম ছুড়ে মেরে ছিল। সাথে সাথে চোখ দিয়ে রক্ত পড়তে থাকে। এরপর থেকে আর চোখ দিয়ে দেখতে পারছি না।’’ একই অভিযোগ করেছেন বিদ্যালয়ের আরেক শিশু শিক্ষার্থী সোহানের মা আনজুয়ারা বেগম। তিনি অভিযোগ করেন, বিদ্যালয়ের এক শিক্ষকের কলমের আঘাতে তার পুত্র সোহানের এক চোখ অন্ধ হয়ে গেছে। অনেকদিন চিকিৎসা করেও ভালো হয়নি। সোহান চোখে ঠিকমতো দেখতে না পারায় তাকে স্থানীয় একটি হাফেজিয়া মাদ্রাসায় ভর্তি করানো হয়েছে। এভাবেই শিক্ষকদের দায়িত্বহীনতায় একে একে দৃষ্টি হারিয়েছে শিশু শিক্ষার্থী। স্কুল কমিটির লোকজনের চাপে এখন অভিযোগ করতেও সাহস পাচ্ছেন না ভুক্তভোগী শিশুর অভিভাবক। এর ফলে ব্যবস্থা নিতে পারেনি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। তাই জবাবদিহিও করতে হয়নি বিদ্যালয়ের শিক্ষক পরিচালনা কমিটিকে। ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে গ্রামীণ একাডেমি স্কুল অ্যান্ড কলেজের পরিচালক আবু সাঈদ বাদশা প্রধান শিক্ষিকা লুৎফা জাহান বলেন, এসব তো পুরোনো কথা। নতুন করে বলার কী আছে? তাছাড়া দুর্ঘটনা ঘটতেই পারে। তাই বলে এসবের দায় প্রতিষ্ঠান নিতে পারে না। শাজাহানপুর উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা তৌফিক আজিজ বলেন, বেসরকারি বিদ্যালয়গুলো উপজেলা শিক্ষা অফিসের কাছে দায়বদ্ধ না। তাই ব্যবস্থা নেওয়া সম্ভব হয়নি। তাছাড়া বিষয়ে জানানো হয়নি। তবে এধরনের ঘটনা ঘটলে শিক্ষককে অবশ্যই আইনের আওতায় আনা জরুরি। একই মন্তব্য করেছেন শাজাহানপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মাহমুদা পারভিন। সূত্রঃ bangle.dhakatribune.com

Please follow and like us:
0
0

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

call now
Poor News
Social media & sharing icons powered by UltimatelySocial