বাবার মাথা কেটে নদীতে ভাসিয়ে দিল অনার্স পড়ুয়া ছেলে : হবিগঞ্জ

আশেপাশে
0
0

বাবার মাথা কেটে নদীতে ভাসিয়ে দিল অনার্স পড়ুয়া ছেলে : হবিগঞ্জ

হবিগঞ্জের আজমিরীগঞ্জে অনার্স ১ম বর্ষে পড়ুয়া ছেলে তার সহযোগীরা পিতাকে গলা কেটে হত্যার পর তার মাথা নদীতে ফেলে দেয়। পরে নিজেই পিতা নিখোঁজ উল্লেখ করে থানায় সাধারণ ডায়েরি করে। পরবর্তীতে ছেলের অস্বাভাবিক আচরণের সূত্র ধরে ঘটনার রহস্য উদঘাটন করে পুলিশ। ছদ্মবেশে সিলেটের সীমান্তবর্তী জকিগঞ্জ থেকে আটক করা হয় ভাড়াটে খুনি মনির আহমেদ হত্যাকাণ্ডে জড়িত তার শ্বাশুড়ি সুফিয়া খাতুনকে। বুধবার ১৯শে ফেব্রুয়ারি বিকেলে তারা আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছে। বুধবার রাতে হবিগঞ্জের পুলিশ সুপার মোহাম্মদ উল্ল্যা তার কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান। গ্রেফতারকৃতদের স্বীকারোক্তির বরাত দিয়ে পুলিশ সুপার জানান, গত ৬ই জানুয়ারি আজমিরীগঞ্জ উপজেলার কাকাইলছেও ইউনিয়নের কুমেদপুর গ্রামের বাসিন্দা সিলেট এমসি কলেজে অনার্স ১ম বর্ষে অধ্যয়নরত কাউসার আহমেদ তার বাবা উমর আলী নিখোঁজ হয়েছেন বলে আজমিরীগঞ্জ থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করেন। এতে উল্লেখ করা হয়, গত বছরের ৩১শে ডিসেম্বর থেকে উমর আলীকে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। পরবর্তীতে তদন্তকারী কর্মকর্তা আজমিরীগঞ্জ থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মোহাম্মদ আবু হানিফ বিভিন্ন সময় ছদ্মবেশে গিয়ে জানতে পারেন সাধারণ ডায়েরির পর থেকেই উমর আলীর ছেলে কাউসার বাড়িতে থাকা গরু বিক্রি করতে থাকে। এছাড়া জায়গাসম্পত্তির কাগজপত্র হাতিয়ে নেয় সে। এদিকে গত ২৩শে জানুয়ারি উমর আলীর ভাই নায়েব আলী বাদী হয়ে উমর আলীর ছেলে কাউসার আহমেদ (২০), কাউছারের মা পিপি বেগম (৫৫), মেয়ে মমতা বেগম (৩০), অপর ছেলে আলআমিন (২৫) ভাতিজা সাদেক মিয়া (৪৫) কে আসামী করে আদালতে একটি অপহরণ  মামলা দায়ের করেন। মামলাটি থানার আসার পর পুরো উদ্যোমে শুরু হয় তদন্ত। গোয়েন্দা তৎপরতা তথ্য প্রযুক্তি ব্যবহারে আজমিরীগঞ্জ থানা পুলিশ নিশ্চিত হয়, উমর আলী নিখোঁজের পর থেকে সিলেটের জকিগঞ্জ পৌরসভার নয়াগ্রাম এলাকার এমাদ উদ্দিনের ছেলে মনির আহমেদ (৩০) এর সাথে নিয়মিত যোগাযোগ রাখছে উমর আলীর ছেলে কাউসার। এর পর থেকেই মনিরকে গ্রেফতারে অভিযান শুরু করে পুলিশ। ছদ্মবেশ ধারণ করে কয়েকদিনের চেষ্টায় গত মঙ্গলবার জকিগঞ্জের সীমান্ত এলাকা থেকে গ্রেফতার করা হয় মনিরকে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে সে জানায়, সিলেটে তার সাথে কাউসারের পরিচয় হয়। সেখানেই উমর আলীকে হত্যার পরিকল্পনা করে তারা। চুক্তি হয় হাজার টাকায়। পুলিশ জানায়, ঘটনার সূত্রপাত হাজী উমর আলীর ২য় বিয়ে থেকে। ২য় স্ত্রীকে নিয়ে আলাদা থাকায় ১ম স্ত্রী কাউসারের মা পিপি বেগম বাদী হয়ে উমর আলীর বিরুদ্ধে মামলা করেন। পরিকল্পনা মোতাবেক গত ৩১শে জানুয়ারি মোবাইল ফোনে মামলা আপোষের কথা বলে বাড়ি থেকে উমর আলীকে নিয়ে যায় সিলেটে। সেখান থেকে নেয়া হয় বিয়ানীবাজার উপজেলার কালাইছড়া গ্রামে মনির আহমেদের শ্বশুর বাড়ির পাশে একটি টিলায় নিয়ে যায় উমর আলীকে। সেখানে মনিরসহ অন্যান্য ঘাতকরা উমর আলীকে জবাই করে তার দেহ থেকে মাথা বিচ্ছিন্ন করে তারা। পরে পরিচয় যাতে সনাক্ত না হয় সেজন্য মাথাটি পার্শ্ববর্তী সোনাই নদীতে ফেলে দেয়া হয় আর লাশ পড়ে থাকে টিলায়। সূত্রঃ ekusheynews1.com

Please follow and like us:
0
0

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *