করোনাকালে নারী-শিশু নির্যাতন মামলার জট সীমিত হলেও নিয়মিত আদালত চালুর দাবি

0
0

করোনাকালে নারী-শিশু নির্যাতন মামলার জট সীমিত হলেও নিয়মিত আদালত চালুর দাবি
করোনাভাইরাস সংক্রমণ রোধে ভার্চুয়াল আদালতে বিচার কার্যক্রম চলছে। কিন্তু এমন আদালতে আসামী আত্মসমর্পণের সুযোগ নেই। করোনাকালে বেড়েছে নির্যাতন। এ কারণে মামলাও বেড়েছে। ২ হাজার ৩শ নারী ও শিশু নির্যাতন মামলা প্রক্রিয়াধীন। অনেক পুরনো মামলার শুনানিও হচ্ছে না। বর্তমান পরিস্থিতিতে নারী ও শিশু নির্যাতনের বিষয়গুলো আদালতের এখতিয়ারে আসা প্রয়োজন বলে মনে করছেন বিশিষ্ট আইনজীবী ও মহিলা পরিষদের নেতৃবৃন্দ। তারা বলছেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে থানা মামলা না নিলে কোর্টে মামলা দায়ের করা যাচ্ছে না। নারী ও কন্যার প্রতি সহিংসতা প্রতিরোধে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা গ্রহণ সম্ভব না হলে পিছিয়ে পড়তে হবে। ভার্চুয়াল কোর্টে সম্ভব না হলে প্রয়োজনে বিশেষ আদালত করে জটিল মামলাগুলো পরিচালনার উদ্যোগ প্রয়োজন বলে মনে করছেন তারা। আদালত কর্তৃক তথ্যপ্রযুক্তি ব্যবহার অধ্যাদেশ, ২০২০ এর অধীনে ভার্চুয়াল আদালতে নারী ও কন্যার সুরক্ষা নিশ্চিতকরণের লক্ষ্যে রোববার ৫ই জুলাই বিকেলে এক অনলাইন মতবিনিময় সভায় এসব কথা বলেন বক্তারা। বাংলাদেশ মহিলা পরিষদের লিগ্যালএইড উপ-পরিষদের উদ্যোগে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। এতে সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ মহিলা পরিষদের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি ডাঃ ফওজিয়া মোসলেম। সভাপতির বক্তব্যে তিনি বলেন, করোনা সংক্রমণ পরিস্থিতিতে নারী ও কন্যা নির্যাতন বৃদ্ধি পেয়েছে। কিন্তু বিচার পাওয়ার সুযোগ সীমিত। ভার্চুয়াল কোর্টের মাধ্যমে নারী ও শিশু নির্যাতনের বিচার পাওয়ার যতটুকু সুযোগ তৈরি হয়েছে, কী কী সীমাবদ্ধতা আছে সে বিষয়গুলো আমাদের পর্যালোচনা করে করণীয় নির্ধারণ করতে হবে। সভায় মহিলা পরিষদের সাধারণ সম্পাদক মালেকা বানু বলেন, নারী ও শিশু নির্যাতনের মামলার ক্ষেত্রে আমার কীভাবে ভার্চুয়াল কোর্টের মাধ্যমে প্রতিকার পেতে পারি নির্ধারণ করা জরুরি। সভায় বিশিষ্ট আইনজীবী অ্যাডভোকেট জেয়াদ-আল-মালুম বলেন, নারী ও শিশু নির্যাতনের মামলাগুলো দু’টি ভাগে বিভক্ত। একটা ফৌজদারি মামলা অন্যটি পারিবারিক আদালতে মামলা। কোভিড-১৯ সংক্রমণের কারণে নারী নির্যাতনের নালিশি মামলার কার্যক্রম স্থগিত। স্থগিত হয়ে যাওয়া মামলাগুলো অবারিত করার জন্য উদ্যাগ গ্রহণ করা প্রয়োজন। অমিত দাশগুপ্ত বলেন, নারী ও শিশু নির্যাতন ফৌজদারি অপরাধ। এক্ষেত্রে নির্যাতনের শিকার নারী প্রতিকার চেয়ে থানায় অথবা কোর্টে মামলা করতে পারেন। কিন্তু কোর্ট বন্ধ থাকার কারণে থানা ছাড়া মামলা করার সুযোগ ছিল না। ভার্চুয়াল কোর্ট সৃষ্টি হওয়ার ফলে তারা এখন মামলা করতে পারবেন। আমিনুল ইসলাম বলেন, ভার্চুয়াল কোর্টে এফআইআর, তদন্ত, সাক্ষ্য গ্রহণ, শুনানি করা যাবে। কিন্তু সিপিসি, সিআরপিসি অনুযায়ী ভার্চুয়াল কোর্টে সব প্রসিডিউর সম্পন্ন করা সম্ভব নয়। নারী ও শিশু নির্যাতন প্রতিরোধে সীমিত পরিসরে হলেও নিয়মিত আদালত চালু করা না গেলে পরিস্থিতি আরও খারাপ হতে পারে। ব্যারিস্টার এ কে রাশেদুল হক বলেন, বর্তমানে ঘরে থাকার কারণে নারী ও শিশুর প্রতি সহিংসতা বেড়ে গেছে। এর প্রতিকারের লক্ষ্যে উদ্যোগ গ্রহণ করা প্রয়োজন। ভার্চুয়াল কোর্টে শুধু শুনানিটুকুই ভার্চুয়াল। বাকি সব শারীরিকভাবেই করতে হয়। বর্তমানে ট্রাইব্যুনালের কার্যক্রম সীমিত হওয়ায় শুধু থানাতেই নারী ও শিশু নির্যাতনের মামলা করতে হচ্ছে। কিন্তু প্রভাবশালীদের কারণে থানায় মামলা করা অনেক ক্ষেত্রে চ্যালেঞ্জিং। এক্ষেত্রে ট্রাইব্যুনালের এখতিয়ার বৃদ্ধি করা যেতে পারে।

Please follow and like us:
0
0

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

call now
Poor News
Social media & sharing icons powered by UltimatelySocial