করোনার কারনে এবার বাড়িওয়ালাদের হাহাকার 

রাজধানী
0
0

করোনার কারনে এবার বাড়িওয়ালাদের হাহাকার 

কোভিড-১৯ মাত্র ৪ মাসে পাল্টে দিয়েছে অনেক কিছুই। রাজধানী ঢাকার অভিজাত এলাকার কথা হয়তো কিছুটা ভিন্ন, তার বাইরে পুরো ঢাকাতেই সঙ্কটের বোবা কান্না। ভাড়াটিয়াদের অসহায়ত্বের পর এবার যত সময় যাচ্ছে সঙ্কট ঘনীভূত হচ্ছে বাড়িওয়ালাদের জন্যও। বাড়ি ভাড়া তুলে আয়েশি জীবন পার করার ক্ষেত্রে শুধু ছন্দপতনই নয়, অনেক বাড়িওয়ালা জমি বিক্রি করে ব্যাংকের কিস্তি পরিশোধ করতে বাধ্য হচ্ছেন।

করোনা সংক্রমণের শুরুতেই এই শহরের অধিকাংশ মধ্যবিত্ত-নিম্নবিত্ত মানুষ উপার্জন হারিয়েছেন। স্বাভাবিকভাবেই এর প্রভাব পড়েছে বাড়িওয়ালাদের ওপর। অনেক ভাড়াটিয়া বাসা ছেড়ে দিয়েছেন। যারা ছাড়েননি তাদেরকে বেরও করে দিতে পারছেন না বাড়িওয়ালারা। কারণ বের করে দিলে কোনোভাবেই জুটবে না নতুন ভাড়াটিয়া। কারো কারো ক্ষেত্রে দেখা গেছে, দুই মাস টু-লেট ঝুলিয়ে একটি সাড়াও পাননি।

এই শহরের অধিকাংশ বাড়ি দাঁড়িয়ে আছে ব্যাংক ঋণের ওপর। মাসের শুরুতে বাসা ভাড়া তুলে ব্যাংকের কিস্তি পরিশোধ করার পর যা থাকে, সেটা দিয়ে জীবন যাপন করেন অনেক বাড়িওয়ালা। তারা এখন গভীর সঙ্কটে। মাস ফুরোলেই মোটা অংকের কিস্তি দিতে হচ্ছে নিজের পকেট থেকে। ওদিকে নিকট ভবিষ্যতে ভাড়াটিয়া পেয়ে যাওয়ারও কোনো লক্ষণ নেই, পেলেও বাসা ভাড়া পাবেন, তেমন নিশ্চয়তা নেই।

ভাড়াটিয়া পরিষদের সভাপতি বাহরানে সুলতান বাহার বলেন, এমন সঙ্কট অনুমিতই ছিল। আমরা আগেই বলেছিলাম, প্রথম পর্বে সঙ্কটে পড়বে ভাড়াটিয়ারা এবং অবধারিতভাবে দ্বিতীয় পর্বে একই সঙ্কটে পড়বে বাড়িওয়ালারা। কারণ ভাড়াটিয়াদের অর্থের ওপর তাদের অনেকের জীবনের চাকা ঘোরে। সরকার যদি বাসা ভাড়া অন্তত অর্ধেক কমিয়ে দিতো এবং বাড়ির বিদ্যুত, গ্যাস বিল মওকুফ করে দিতো, তাহলে এতবড় সঙ্কট তৈরি হতো না বাড়ীওয়ালাদের।

Please follow and like us:
0
0

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *