বাবরি মসজিদ পুনরুদ্ধারে আন্তর্জাতিক আদালতে মামলা করার ঘোষণা কুয়েতের আইনজীবির

0
0

বাবরি মসজিদ পুনরুদ্ধারে আন্তর্জাতিক আদালতে মামলা করার ঘোষণা কুয়েতের আইনজীবির

কল্পনার স্রোতে ভেসে মসজিদের স্থানেই রামের জন্মের ধুয়ো তুলে ভেঙে গুঁড়িয়ে দেওয়া হয় ৬০০ বছরের ঐতিহ্যবাহী ঐতিহাসিক বাবরি মসজিদ। সেই ধ্বংসস্তুপের উপর এই শেষ পেরেক পুঁতে দেয় হিন্দু ধর্মের একাংশের বিশ্বাস অনুযায়ী ভারতের সর্বোচ্চ ন্যায়ালয়ের একটি রায়।

কয়েক শতাব্দী প্রাচীন মসজিদের ধ্বংসস্তুপের উপর গড়ে উঠবে রামমন্দির। আগামী ৫ ই আগস্ট হবে বিতর্কিত স্থানে রাম মন্দিরের শিলান্যাস এবং ভীত পুজো। উপস্থিত থাকবেন পৃথিবীর সর্ববৃহৎ গণতন্ত্র ও ধর্মনিরপেক্ষ ভারতের বর্তমান প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি।

এবার বাবরী মসজিদ পুনরুদ্ধারে আন্তর্জাতিক বিচারালয়ের শরণাপন্ন হতে চলেছেন কাতারের কুয়েতের একজন বিখ্যাত আইনজীবী।

বাবরি মসজিদের স্থানে রাম মন্দিরের শিলান্যাস হওয়ার ঠিক আগেই আন্তর্জাতিক মহলেও বিষয়টি যথেষ্ট তাৎপর্যপূর্ণ হয়ে উঠেছে। বাংলাদেশ সরকার ও সম্প্রতি এ বিষয়ে তাদের ক্ষেদ ব্যক্ত করেছে। এবার বিষয়টি নিয়ে আন্তর্জাতিক আদালতে যাওয়ার কথা জানিয়েছেন কুয়েতের বিশ্ব বিখ্যাত আইনজীবী ও মানবাধিকার সংগঠনের প্রধান মুজবিল আল শুরেকা।

মিস্টার সুরকা তিনি তার সর্বশেষ টুইটে। একটি চিঠি শেয়ার করেছেন যেখানে তিনি অল ইন্ডিয়া মুসলিম পার্সোনাল ল বোর্ড কে বিষয়টি আন্তর্জাতিক আদালতে নেওয়ার ব্যাপারে সম্মতির অনুরোধ জানিয়েছেন।

তিনি তাঁর চিঠিতে জানিয়েছেন, ‘এটি ভারতীয় মুসলিমদের উদ্বিগ্ন হওয়ার বিষয় এবং ধর্মীয় ও মানবাধিকার লঙ্ঘনের বিষয়টি ও এর সঙ্গে যুক্ত তাই, আমি আপনাকে অনুরোধ করবো আপনার বোর্ডের সদস্যদের নিয়ে একটি সভা ডাকুন। এবং বাবরি মসজিদ মামলাটি আন্তর্জাতিক আদালতে তোলার দায়িত্ব মঞ্জুর করুন। ‘

আরো পড়ুন- বাবরি মসজিদের ইতিহাস
মসজিদের নির্মাণকৌশল

দিল্লির সুলতানি এবং তার উত্তরাধিকারী মুঘল সাম্রাজ্যের শাসকরা শিল্প এবং স্থাপত্যের পৃষ্ঠপোষক ছিলেন এবং তাদের নির্মিত অনেক সমাধি, মসজিদ ও মাদ্রাসা সূক্ষ নির্মাণকৌশলের নিদর্শন বহন করে। মুঘলদের স্থাপত্য তুঘলক রাজবংশের স্থাপত্যের প্রভাব বহন করে যার একটি স্বতন্ত্র গঠনশৈলী আছে।

ভারতের সর্বত্র, মসজিদসমূহের ভিন্ন ভিন্ন গঠনশৈলী আছে যা বিভিন্ন সময়ে নির্মিত হয়েছিল। এই নির্মাণগুলির মধ্যে আদিবাসী শিল্প ঐতিহ্য এবং স্থানীয় কারিগরদের মার্জিত শৈলী ও দক্ষতা উভয়ই প্রকাশ পায়। মসজিদের নির্মাণে আঞ্চলিক বা প্রাদেশিক জলবায়ু, ভূখণ্ড, উপকরণ ইত্যাদি প্রভাব ফেলতো যার ফলে বঙ্গ, কাশ্মীর ও গুজরাটের মসজিদের মধ্যে বিরাট পার্থক্য লক্ষ্য করা যায়।

মসজিদগুলি শুধুমাত্র স্থানীয় মন্দির বা গার্হস্থ্য গঠনশৈলীর মধ্যে আবদ্ধ ছিল না। বাবরি মসজিদ জানপুরের সুলতানি স্থাপত্যের পরিচয় বহন করে। পশ্চিম দিক থেকে দেখলে এই মসজিদ জানপুরের আতালা মসজিদ এর সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ।[১২]

বাবরি মসজিদ তার সংরক্ষিত স্থাপত্য ও স্বতন্ত্র গঠনশৈলীর জন্য বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ ছিল। মসজিদটি সম্রাট আকবর দ্বারা গৃহীত ইন্দো-ইসলামী গঠনশৈলীর প্রতীক ছিল।

আদালতের রায়

২০১০ সালের ৩০শে সেপ্টেম্বর এলাহাবাদ হাইকোর্ট বাবরী মসজিদ যে স্থানে ছিল সেই ভূমি সম্পর্কিত রায় দেয়। এলাহাবাদ হাইকোর্টের তিন জন বিচারপতির সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চ তাদের রায়ে ২.৭৭ বা ১.১২ হেক্টর ভূমি সমান তিনভাগে ভাগকরার রায় প্রদান করেন।

যার এক অংশ পাবে হিন্দু মহাসভা রাম জন্মভূমিতে রাম মন্দির নির্মাণের জন্য, দ্বিতীয় অংশ পাবে ইসলামিক সুন্নি ওয়াকফ বোর্ড এবং বাকি তৃতীয় অংশ পাবে নির্মোহী আখরা নামে একটি হিন্দু সংগঠন। যদিও ধ্বংসপ্রাপ্ত বাবরি মসজিদ কোন মন্দির কে ধ্বংস করে তার উপরে করে উঠছে কিনা এই বিষয়ে তিনজন বিচারক একমত হতে পারেননি,

তারা শুধুমাত্র একমত হতে পেরেছেন, মসজিদের নিচে মন্দির অথবা মন্দিরের মতো কোনো স্থাপনার অস্তিত্ব ছিল।[১৩] ভারতের পুরাতত্ত্ব বিভাগ কর্তৃক করা খননকার্যের জরিপ আদালত দ্বারা গুরুত্বের সাথে বিবেচনা করা হয়েছিল এবং তারা মনে করেছে যে স্থাপনাটির অস্তিত্ব মসজিদ নির্মাণের পূর্বে থেকে ছিল সে স্থাপনাটি একটি বিশাল হিন্দু মন্দির ছিল।[১৪]

২০১৯ সালের অক্টোবর থেকে ভারতের সর্বোচ্চ আদালত এই মামলার শুনানি করে।[৭][৮] ৯ ই নভেম্বর ২০১৯ সালে ৫ জন বিচারকের সমন্বয়ে গঠিত একটি বেঞ্চ এই নির্দেশ দেয় ২.৭৭ একরের সে জমিটি মন্দির নির্মাণের জন্য কোন ট্রাস্টকে হস্তান্তর করতে হবে। আদালত সরকারকে এটাও নির্দেশ দেয় যে, মসজিদ নির্মাণের জন্য সুন্নি ওয়াকফ বোর্ড কে ৫ একরের একটি জায়গা দিতে হবে।[৯]

সুত্রঃ india.shafaqna.com

Please follow and like us:
0
0

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

call now
Poor News
Social media & sharing icons powered by UltimatelySocial