আশুলিয়ায় মাদ্রাসায় ছাত্রকে নির্যাতনের ঘটনায়  দুই শিক্ষকসহ ৪ জন আটক

শিক্ষাঙ্গন
0
0

আশুলিয়ায় মাদ্রাসায় ছাত্রকে নির্যাতনের ঘটনায়  দুই শিক্ষকসহ ৪ জন আটক

ঢাকার আশুলিয়ার একটি মাদ্রাসায় দুই শিশু শিক্ষার্থীকে হাত-পা বেঁধে নির্যাতনের ঘটনায় শিক্ষক হাফেজ ইব্রাহিম মিয়া ও হাফেজ ওবায়দুল্লাহসহ চারজনকে আটক করেছে পুলিশ। গতকাল সোমবার রাতে আশুলিয়ার শ্রীপুরের নতুননগর মদনেরটেক এলাকা থেকে তাদের আটক করা হয়। শিশু নির্যাতনের ভিডিও গতকাল সোমবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়। এ নিয়ে এনটিভিতে সংবাদ প্রচারের পর তোলপাড় সৃষ্টি হয়। প্রশাসন নড়েচড়ে বসলে গা ঢাকা দেন ঐ মাদ্রাসার শিক্ষকরা ভিডিওতে দেখা যায়, গত ১১ই সেপ্টেম্বর আশুলিয়ার শ্রীপুরের নতুননগর মদনেরটেক এলাকায় জাবালে নূর মাদ্রাসায় অন্যান্য ছাত্রদের সামনেই হুজুর ইব্রাহিম মিয়া (৩৩) ছাত্র রাকিব হোসেন (৯) এর হাত-পা বেঁধে নির্যাতন করছেন। এ সময় পাশেই দেখা যায়, হাত-পা বাঁধা আতঙ্কিত মাহফুজুর রহমান নামের আরেক ছাত্রকে। নির্যাতনে দুই ছাত্র অসুস্থ হয়ে পড়লে খবর দেওয়া হয় তাদের পরিবারকে। এদের মধ্যে শিশু রাকিব হোসেনকে গুরুতর অবস্থায় উদ্ধার করে তার পরিবার গ্রামের বাড়ি নিয়ে টাঙ্গাইলের একটি হাসপাতালে ভর্তি করে। নির্মম শারীরিক নির্যাতনে শিশুটি এখন মানসিকভাবে আতঙ্কিত ও ভারসাম্যহীন বলে জানিয়েছে তার পরিবার। মাদ্রাসাটির শিশু ছাত্ররা জানায়, দু’জনকে মারধর করার সময় আহত শিশুরা তাদের না মারতে অনুরোধ করলেও মন গলেনি ঐ হুজুরের।  এদিকে, গতকাল সকালে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে শিশু ছাত্রকে মারধরের ভিডিও ভাইরাল হলে ঘটনাস্থলে যায় আশুলিয়া থানা পুলিশ। এলাকাবাসী ঐ হুজুরকে গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনার জোর দাবি জানায়। রাতে অভিযান চালিয়ে হুজুর হাফেজ ইব্রাহিম মিয়া ও হাফেজ ওবায়দুল্লাহসহ ৪জনকে আটক করে পুলিশ। এলাকাবাসী জানায়, দুই বছর আগে জাবালে নূর মাদ্রাসা চালু করেন আবদুল জব্বার নামের স্থানীয় এক বাসিন্দা। ঐ মাদ্রাসায় আগে দু’শত ছাত্র থাকলেও নির্যাতনের কারণে একে একে মাদ্রাসা ছেড়ে যান ছাত্ররা। মাত্র দু’জন হুজুরের তত্ত্বাবধানে বর্তমানে ১৪ জন ছাত্র ছিল। সর্বশেষ নির্যাতনের শিকার হওয়ার পর দুই শিশুকেও ঐ মাদ্রাসা থেকে ছাড়িয়ে নিয়ে গেছেন অভিভাবকরা। জড়িতদের কঠোর শাস্তির দাবি করেছেন স্থানীয় ধামসোনা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান সাইফুল ইসলাম। আশুলিয়া থানার এসআই মহিউদ্দিন জানান, শিশু ছাত্রকে নির্যাতনে অভিযোগের সত্যতা মিলেছে। ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের নির্দেশে মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চলছে। এসআই জানান, মাদ্রাসায় শিশু নির্যাতনের ভিডিও ভাইরাল হওয়ার পর ক্ষোভে ফুঁসে ওঠেন এলাকার জনগণ। রাতেই তারা ঐ দুই হুজুরকে ধরে উত্তমমধ্যম দিয়ে পুলিশে সোপর্দ করেন। আশুলিয়া থানার ওসি এস এম কামরুজ্জামান বলেছেন, এ ঘটনায় অভিযুক্ত হুজুরদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

Please follow and like us:
0
0

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *